কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান পরিদর্শন করেছে ভুটানের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল। অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রামের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা সেতুর পূর্ব পাশে মাধবরাম মৌজায় প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান পরিদর্শন করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এর আগে সকালে তাঁরা চিলমারী নৌবন্দর এবং পরে সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে এসব বন্দরের যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা যাচাই করতেই তাঁরা স্থানগুলো পরিদর্শন করেন।
ভুটানের জিএমসিএর উপপরিচালক (আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত বিষয়াদি) কালদেন দর্জি, সহযোগী পরিচালক নিম এলহাম এবং ঢাকায় রয়্যাল ভুটানিজ দূতাবাসের মিনিস্টার-কাউন্সিলর (বাণিজ্য) দাওয়া শেরিং প্রতিনিধি দলে ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রতিনিধিরাও ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে বেজার এক কর্মকর্তা বলেন, ভুটানের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন। তাঁরা দ্রুত ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা নদীর পূর্ব পাড়ে কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী সড়কের পাশে চর মাধবরাম এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য ১৩৩ দশমিক ৯২ একর খাসজমি বেজার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৮৬ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের মধ্যে সমঝোতার পর কুড়িগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১০ মার্চ ভুটানের রাষ্ট্রদূত এইচ ই রিনচেন কুইন্টসি প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন। পরে একই বছরের ২৮ মার্চ ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগুয়েল ওয়াংচুকও স্থানটি পরিদর্শন করেন।
প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সোনাহাট স্থলবন্দর ও চিলমারী নৌবন্দরের যোগাযোগব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে ভুটানের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। ফলে এ স্থলবন্দর দিয়ে ভুটানের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে চিলমারী নৌবন্দরকে যুক্ত করা গেলে নৌপথেও পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ কারণে প্রতিনিধি দলের এবারের সফরে চিলমারী নৌবন্দর ও সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রামে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
এই বাংলা/এমএস