পদ্মা, যমুনাসহ দেশের সব নৌপথে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ডাকাতি এবং প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ বাল্কহেড ড্রেজার মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দেশব্যাপী আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুড়া এলাকার পদ্মা নদীর তীরে বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাল্কহেড নৌযানের মালিক, শ্রমিক ও সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাল্কহেড ড্রেজার ব্যবসায়ী সুরুজ খান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ মারফত আলী মিয়াজী।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের নৌপথে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ডাকাতির কারণে বাল্কহেড মালিক ও শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। নৌযান চলাচলে বাধা, চাঁদা দাবি এবং ডাকাতির ঘটনায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতাও পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সবুজ সিকদার মাস্টার বলেন, বিআইডব্লিউটিএর টোল, ট্যাক্স ও চ্যানেল চার্জের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে নৌপরিবহন খাতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া নৌযানের সনদপত্র তদারকির নামে অযথা হয়রানি, মিথ্যা মামলা এবং প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা মালিক-শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা দাবি জানান, নৌপথকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও ডাকাতিমুক্ত করে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ বাল্কহেড ড্রেজার মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে দেশব্যাপী ধারাবাহিক ও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. গফুর মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ, কেন্দ্রীয় নেতা হুমায়ুন আহম্মেদ, হিসাবরক্ষক আবুল বাসার এবং মুন্সিগঞ্জ বাল্কহেড মালিক সমিতির প্রতিনিধি জামাল খানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ শাহজাহান খান,
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ১২, পুরানা পল্টন (এল মল্লিক কমপ্লেক্স, ৫ম তলা) ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও আর এস প্রিন্টিং প্রেস ৯২, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।