সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৮তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৮তম নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নৌ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে নৌপ্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণ বইয়ে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন নবনিযুক্ত নৌপ্রধান। এ সময় নৌ সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি নিজ ব্যাচে মেধা ও জ্যেষ্ঠতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন।

তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স এবং অপারেশনাল স্টাডিজে তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের কৃতি গ্র্যাজুয়েট তিনি। ছাত্রজীবনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান অর্জনের জন্য রাষ্ট্রপতির চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন, বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট এবং নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক (নৌ অপারেশনস) ও পরিচালক (নৌ পরিকল্পনা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বানৌজা ওমর ফারুকসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজের অধিনায়ক এবং বিভিন্ন সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে ভূমিকা রাখেন।

কর্মজীবনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন পদক ‘নৌবাহিনী পদক (এনবিপি)’ ও ‘নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি)’ ছাড়াও জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার, জাতীয় স্কাউট পুরস্কার (রৌপ্য ইলিশ পদক), তিনবার নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাসূচক ইনসিগনিয়া, ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন’ পুরস্কার এবং একাধিক পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

গবেষক ও লেখক হিসেবেও পরিচিত ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও নৌ-কৌশল বিষয়ে একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশীয় প্রযুক্তি, গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও আত্মনির্ভরশীল নৌবাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এই সম্পর্কিত আরো খবর