নিজস্ব প্রতিবেদক :
নেত্রকোনা জেলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘দকমান্দা’ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার বৃহত্তর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার।
সম্প্রতি নেত্রকোনার অনুসন্ধানী সাংবাদিক লুৎফর জামান ফকিরের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ‘দকমান্দা’ সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আদিবাসীদের হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক শুধু তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ‘দকমান্দা’সহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পণ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সেগুলোর বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে আদিবাসী নারীরা অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হতে পারেন।”
তিনি আরও জানান, আদিবাসী নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ‘দকমান্দা’ এবং অন্যান্য হস্তশিল্পজাত পণ্যের মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করে দেশ-বিদেশে এর পরিচিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আমরা চাই নেত্রকোনার আদিবাসী সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে গর্বের সঙ্গে বেঁচে থাকুক। একই সঙ্গে তারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করবে।”
অনুসন্ধানী সাংবাদিক লুৎফর জামান ফকির আদিবাসীদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও স্বনির্ভরতা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করলে ডেপুটি স্পিকার সরকারের গৃহীত উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘দকমান্দা’ সংরক্ষণ ও প্রসারে ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নেত্রকোনার আদিবাসী সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে আরও পরিচিত হবে। একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং আদিবাসী নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, ‘দকমান্দা’ নেত্রকোনা অঞ্চলের আদিবাসী নারীদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান পোশাক। রঙিন সুতা ও নান্দনিক নকশায় বোনা এই পোশাক তাদের সংস্কৃতি, পরিচয় ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে এর ব্যবহার কমে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এ পোশাকটি বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক