শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা–বরিশাল নৌরুটে আবারো চালু হচ্ছে শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার: পি এস মাহসুদ

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার ‘পি এস মাহসুদ’। ছবি - সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি :

বাংলাদেশের নৌ ঐতিহ্যের প্রতীক শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার ‘পি এস মাহসুদ’ শিগগিরই আবারও ঢাকা–বরিশাল রুটে চলাচল শুরু করতে যাচ্ছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে সদরঘাট থেকে ঢাকা–মুন্সীগঞ্জ রুটে পরীক্ষামূলক ভ্রমণে অংশ নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, স্টিমারটির যান্ত্রিক ও নেভিগেশন সক্ষমতা যাচাই করার জন্য আজকের ট্রায়াল ট্রিপ পরিচালিত হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রস্তুতি শেষ হলে ১৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মাধ্যমে এটি ঢাকা–বরিশাল রুটে নিয়মিত পর্যটন সার্ভিস হিসেবে চলবে।

উপদেষ্টা আরও জানান, পি এস মাহসুদ কেবল একটি নৌযান নয়, এটি বাংলাদেশের নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ও ইতিহাসের জীবন্ত প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে নদীপথের ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, ‘পি এস মাহসুদ’-এর পাশাপাশি ‘পি এস অস্ট্রিচ’, ‘পি এস লেপচা’ ও ‘পি এস টার্ন’ নামের পুরোনো স্টিমারগুলোকেও সংস্কার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের নদীভিত্তিক পর্যটন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ আরও সম্প্রসারিত হয়।

সংস্কারের সময় মূল কাঠামো ও ঐতিহাসিক নকশা অক্ষুণ্ন রেখে ইঞ্জিন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ফায়ার সেফটি সিস্টেম নতুনভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এতে এখন রয়েছে আধুনিক কেবিন, পর্যটকবান্ধব ডেক ও ডিজিটাল নেভিগেশন সুবিধা।

নিয়ম অনুযায়ী, স্টিমারটি প্রতি শুক্রবার ঢাকা থেকে বরিশাল এবং শনিবার বরিশাল থেকে ঢাকা রুটে চলবে। যাত্রীরা উপভোগ করতে পারবেন নদীপথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মিশেলে এক অনন্য ভ্রমণ।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্ত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের লাইফ বোট, ফায়ার সেফটি ও জিপিএস ব্যবস্থা। নতুন ইঞ্জিনে ব্যবহৃত হয়েছে কম ধোঁয়া নির্গমনকারী প্রযুক্তি, যা নদীপথে দূষণ কমাতে সহায়তা করবে। স্টিমারটি পরিচালনায় থাকবেন ২৫ জন প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা ও নাবিক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) দেলোয়ারা বেগম, বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর