অশোভন মন্তব্যে ক্ষমা চাইলেন ইবি শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

0
118
ছবি - এই বাংলা প্রতিনিধি

ইবি প্রতিনিধি :


সাজিদ হত্যার ঘটনা ও নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দীন মিঝি বুধবার (২৯ অক্টোবর) ক্ষমা চেয়েছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

সকাল সাড়ে ১০টায় নিজের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমার বক্তব্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল হয়েছে, যা একটি স্লিপ অফ দ্য টাং। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।”

প্রায় এক ঘণ্টা পর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে এবং উপাচার্য বরাবর ৫ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করে।

শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল:

  • সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার।
  • অধ্যাপক নাছির উদ্দীন মিঝিকে তার কটূক্তির কারণে বহিষ্কার করা।
  • আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
  • ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ন্যায্য আন্দোলনে বাধা দেওয়ার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন।
  • শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের অধিকার ও একাডেমিক ফলাফলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক নাছির উদ্দীন মিঝি জানান, সাজিদের বিষয়টি নিয়ে তার কথা একান্ত ব্যক্তিগত পর্যায়ে হয়েছিল। কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে তার বক্তব্য ছিল না। তবে কথোপকথনের সময় স্লিপ অফ টাং হওয়ায় ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সবার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আলোচিত অডিওতে আন্দোলন বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে এবং একজন নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য রয়েছে। তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে স্থায়ী বহিষ্কার করা হোক।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ শিক্ষার্থীদের বলেন, কোনো শিক্ষক যদি এমন শব্দ ব্যবহার করে, তা মানহানিকর ও অপমানজনক। তিনি নিশ্চিত করেছেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক এ ধরনের মন্তব্য করবেন না।

প্রসঙ্গত, ২৮ অক্টোবর রাতে ফেসবুক গ্রুপ ‘ইবিয়ান পরিবার (IUian Family)’-এ অধ্যাপক নাছির উদ্দীন মিঝির একটি চার মিনিট ছয় সেকেন্ডের অডিও পোস্ট হয়। এতে আল-কুরআন বিভাগের আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছিল।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here