বিশেষ প্রতিনিধি :
শেরপুরের বিনাইগাতী উপজেলা এলাকায় অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে একটি ট্রলি আটক, দুটি ড্রেজার মেশিন অকেজো এবং প্রায় এক হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়।
জানা গেছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিনাইগাতীর বিভিন্ন নদী-নালা, খাল ও পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন চলছিল। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেয় জেলা প্রশাসন।
অভিযানকালে পার্শ্ববর্তী একটি উপজেলা থেকে আনা বালুভর্তি একটি ট্রলি আটক করা হয়। এছাড়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে দুটি ড্রেজার মেশিন সম্পূর্ণরূপে ভেঙে অকেজো করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রায় এক হাজার ফুটের বেশি পাইপ ধ্বংস করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমিন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দিতা রানী বৈদ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০–এর ধারা ৯(৪) অনুযায়ী নালিতাবাড়ী উপজেলা, বিনাইগাতী উপজেলা ও শ্রীবরদী উপজেলা–এর সকল বালুমহাল বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে বালুমহালের ইজারা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি চক্র গোপনে বালু উত্তোলন ও পরিবহন অব্যাহত রাখায় প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. আল-আমিন বলেন, “আইন অমান্য করে কেউ বালু উত্তোলন বা পরিবহন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল পরিবেশ রক্ষা ও নদীভাঙন প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

