Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দুধকুমার নদীতে বালু লুট: উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে চলছে অবৈধ উত্তোলন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদীতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে বালু লুটের মহোৎসব। রাতের আঁধারে নদীর বুকচিরে ড্রেজারের পাইপ, আর দিনের...
Homeসারাদেশ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ না হতেই নদীতে জেলেরা, বাজারে মিলছে ইলিশ

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ না হতেই নদীতে জেলেরা, বাজারে মিলছে ইলিশ

ভোলা প্রতিনিধি :

শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে মা ইলিশ রক্ষায় সাগর ও নদ-নদীতে মাছ শিকারে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। তবে প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে দলে দলে ইলিশ শিকার করছে জেলেরা। প্রকাশ্যে জেলার বিভিন্ন মাছঘাট ও বাজারে বিক্রিও হচ্ছে ইলিশ।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে ভোলার বিভিন্ন মাছঘাট ও বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।তবে জনবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জেলেদের বেপরোয়া আচরণকে দায়ী করছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।

সরজেমিনে শনিবার সকালে ভোলা সদর উপজেলার ভোলার খাল মাছঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা নৌকায় জাল নিয়ে নদীতে যাচ্ছেন। এ সময় মৎস্য বিভাগের একটি ফিট বোট স্পিড বোট দেখে তারা পুনরায় নৌকা নিয়ে ঘাটে ফিরে আসেন। তাদেরকে নদীতে যাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, ভোলার সব ঘাটের জেলেই গতরাত (শুক্রবার) থেকে নদীতে মাছ শিকার করছেন।

আবার সকালে জেলার বিভিন্ন ঘাটে প্রকাশ্যেই মাছ বিক্রি করা হয়েছে। আজ শেষ দিন হওয়ায় জেলেরা একটু আগেই নদীতে নেমেছেন।এর আগে সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার তুলাতুলি, নাছির মাঝি, দৌলতখানের মাঝিরহাট মাছঘাটসহ সাত-আটটি মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, ঘাটগুলোতে প্রকাশ্যে মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। জেলেরা নদী থেকে মাছ শিকার করে ঘাটে নিয়ে আসছেন।এ সময় মৎস্য বিভাগ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি। সকাল ১০টার দিকে ভোলার শহরের কিচেন মার্কেটেও প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি করতে দেখা যায়। শহরের অলিগলিতেও বিক্রি করা হচ্ছে মা ইলিশ।ভোলারখাল মাছঘাটের জেলে ইসমাইল মাঝিসহ চার-পাঁচজন জেলে জানান, অভিযান শেষে নদীতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে ঘাটে এসে দেখেন অন্যান্য ঘাটের জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে নেমে গেছে। গত দুই দিন ধরে ইলিশা, তুলাতুলি, দৌলতখানসহ বিভিন্ন মাছঘাটের জেলেরা নদীতে মাছ শিকার করছে।

নদীতে মৎস্য বিভাগের তেমন কোনো অভিযান নেই। শনিবার দুপুরের দিকে তারাও নদীতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় মৎস্য বিভাগের লোকজন এসে তাদেরকে নিষেধ করে গেছেন। অথচ সব ঘাটের জেলে নদীতে মাছ শিকার করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।ভোলার কিচেন মার্কেটের মাছ বিক্রেতা মো. ইসমাইল জানান, তিনি সকালে নাছির মাঝি ঘাট থেকে সাত হাজার টাকার ইলিশ কিনে এনেছেন। সেখানে প্রকাশ্যেই মাছ বেচা-কেনা হয়েছে।ভোলার যুগিরঘোল এলাকায় প্রকাশ্যে মাছ বিক্রি করছেন আব্দুল মন্নান। তিনি জানান, সকালে দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া মাঝিরহাট মাছঘাট থেকে সাড়ে চার হাজার টাকার মাছ কিনে এনেছেন। সেখানে প্রকাশ্যেই ইলিশ বিক্রি করা হয়েছে। জেলেরাও নদী থেকে মাছ শিকার করে ঘাটে নিয়ে এসেছেন।

সব যায়গায় মাছ বিক্রি হওয়ায় তিনিও কিনে এনেছেন বিক্রির জন্য। এছাড়া আড়ত মালিকরা বিপুল পরিমাণ মাছ কিনেছেন মোকামে পাঠানোর জন্য।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ৫১৬টি অভিযান ও ১৮০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৯৩ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। এ সময় ৪৫ লাখ মিটার জাল ও ৩ দশমিক ৭০৬ মেট্রিকটন মাছ জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে জরিমানা ও নিলাম থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা।মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার। ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে এক লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৮ জনকে ২৫ কেজি করে মোট তিন হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।তবে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, অভিযানের শেষ দিন হওয়ায় জেলেরা বেপরোয়া হয়ে গেছে। আমরা চারদিকেই দৌড়াচ্ছি। শেষ দিন ও জনবল কম থাকায় আমাদের কিছু করার নেই। তার পরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এই বাংলা/এমএস

টপিক