নাটোর প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে নাটোরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আনুপাতিক হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রায় ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। আর এসব আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন দলীয় প্রধান তারেক রহমান।
এই প্রেক্ষাপটে নাটোর থেকে আলোচনায় রয়েছেন তিন নারী নেত্রী— সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, মহুয়া নূর কচি ও সানজিদা ইয়াসমিন তুলি।
সাবিনা ইয়াসমিন ছবি :
নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য এবং নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কাদ্দুস কালুকদার দুলু-এর সহধর্মিণী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি আলোচনায় রয়েছেন অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে।
তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালে নাটোর-2 আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, স্বামী দুলু কারাবন্দি থাকাকালে তিনি নাটোর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখেন এবং রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তাঁর শিক্ষা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা নাটোর-নওগাঁ অঞ্চলের উন্নয়ন ও দলীয় কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বিএনপির একটি অংশ মনে করছে।
মহুয়া নূর কচি :
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচিও সংরক্ষিত আসনের আলোচনায় রয়েছেন।
২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় দলীয় কর্মসূচি চলাকালে সানাউল্লাহ নূর বাবু নিহত হন। এরপর থেকে মহুয়া নূর কচি বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশ মহুয়া নূর কচিকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চান।
সানজিদা ইয়াসমিন তুলি :
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের লালপুর উপজেলার গৌরিপুর এলাকার বাসিন্দা সানজিদা ইয়াসমিন তুলি ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। পাশাপাশি জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তুলির বাবা লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তুলি। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে সক্রিয় ছাত্ররাজনীতিতে অংশ নেন।
বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন রাজপথে অবস্থানকালে হামলায় আহত হন। এছাড়া ২০২১ ও ২০২২ সালেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নাটোর-১ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশ সানজিদা ইয়াসমিন তুলিকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ :
বিগত সময়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নাটোর ও নওগাঁ জেলা মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে একজন দায়িত্ব পান। ফলে তিনজনের মধ্য থেকে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে।
দলীয় সূত্র বলছে, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের প্রতি আনুগত্য— এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখন দেখার বিষয়, নাটোর থেকে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জোটে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন।

