জলবায়ু পরিবর্তনের ছায়ায় নতুন মহামারি চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কা

ছবি - সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক :

বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এক বিপজ্জনক মশাবাহিত ভাইরাস—চিকুনগুনিয়া। গবেষকেরা এখন এর অপ্রত্যাশিত বিস্তার ও নতুন প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের মতে, ভাইরাসটির গতিপ্রকৃতি এতটাই জটিল যে, এর বিস্তার ও তীব্রতা পূর্বাভাস দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় চিকুনগুনিয়ার ৮৬টি প্রাদুর্ভাব বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে। মূল উদ্দেশ্য ছিল—ভাইরাসটির বিস্তারের ধরন ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করা, যাতে কার্যকর প্রতিরোধ ও চিকিৎসা পরিকল্পনা করা যায়।

তবে ফলাফল দেখায়, চিকুনগুনিয়া অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে আচরণ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও গবেষণার সহলেখক অ্যালেক্স পারকিন্স বলেন, “চিকুনগুনিয়া কখনও কয়েকজনকে সংক্রমিত করে, আবার একই পরিবেশে হাজারো মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। এই অস্থিরতাই জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা ও টিকা উন্নয়নের বড় বাধা।”

চিকুনগুনিয়া মূলত ছড়ায় এডিস এজিপ্টি ও এডিস অ্যালবোপিক্টাস নামের মশার মাধ্যমে। এই দুটি প্রজাতি সাধারণত উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।

মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (CDC) জানিয়েছে, রোগটির প্রধান উপসর্গ হলো উচ্চ জ্বর ও তীব্র জয়েন্ট ব্যথা। সাধারণত এক-দুই সপ্তাহে সেরে গেলেও, ব্যথা অনেক সময় মাসের পর মাস স্থায়ী হয়। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজ কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন এই মশাগুলো নতুন অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা বাড়ছে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায়।

গবেষকেরা বলছেন, আবহাওয়ার তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাত প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্য এলাকা নির্দেশ করতে পারে, কিন্তু সংক্রমণের তীব্রতা নির্ভর করে স্থানীয় বাস্তবতা ও সামাজিক প্রস্তুতির ওপর—যেমন বাড়িঘরের মান, পরিচ্ছন্নতা, মশার ঘনত্ব, এবং জনগণের সচেতনতা। পারকিন্স বলেন, “কখনো কখনো সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ভাগ্যও ভূমিকা রাখে। এই অনিশ্চয়তাই আমাদের লড়াইকে কঠিন করে তোলে।”

বর্তমানে চিকুনগুনিয়ার বিরুদ্ধে দুটি কার্যকর টিকা তৈরি হলেও, সেগুলোর প্রাপ্যতা এখনও সীমিত—বিশেষত যেসব এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে আগে থেকেই জানতে হবে কোন অঞ্চলে প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এতে টিকা সরবরাহ, গবেষণা, ও প্রতিরোধ পরিকল্পনা আরও কার্যকর হবে।

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগবাহী মশার বিস্তারও বাড়ছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের বিস্তার রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here