কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্রহ্মপুত্র নদীর চিলমারী থেকে রৌমারী রুটে ফেরি চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গত দুই বছরে মোট ৭৭৪ দিনের মধ্যে ফেরি চলেছে মাত্র ৪০৫ দিনে, বাকি ৩৬৯ দিন বন্ধ থাকার কারণে যাত্রী ও পরিবহন মালিকদের সময় ও অর্থিক ক্ষতি সহ্য করতে হচ্ছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও বিকল্প পথে ঘুরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয় ঘাট সূত্র জানায়, নদীর নাব্য সংকট এবং ঘাট ব্যবস্থাপনার সমস্যা ফেরি চলাচল ব্যাহত করছে। বারবার ড্রেজিং করার পরও বর্ষা ও উজানের ঢলে পলি জমে চর সৃষ্টি হচ্ছে, এবং ভাঙন দেখা দিচ্ছে।
কুড়িগ্রাম বিআইডব্লিউটিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী-রৌমারী রুটে ফেরি চালু হওয়ার পর ‘কুঞ্জলতা’ ও ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ফেরি যুক্ত হয়। পরে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ফেরি সরিয়ে ‘কদম’ নামের আরেকটি ফেরি সংযুক্ত করা হয়। তবে চলতি বছর ২০২৫ সালে অক্টোবর পর্যন্ত ২১৯ দিনের মধ্যে ফেরি চলেছে মাত্র ৬৭ দিনে।
চিলমারী ঘাটের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ফেরি চালু হওয়ার প্রথম বছরে ১০৪ দিনের মধ্যে ৯৭ দিন চলেছে। ২০২৪ সালে ফেরি চলেছে ২৪১ দিন, বন্ধ ছিল ১২৬ দিন। কিন্তু ২০২৫ সালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
ফেরিঘাট ম্যানেজার প্রফুল্ল চৌহান জানান, ‘ফেরি নিয়মিত চালু রাখতে পারলে যাত্রী ও পরিবহনে সুবিধা হবে। বন্ধের আগে পার্শ্ববর্তী জেলার মটর মালিক সমিতিকে অবহিত করি।’
বাংলাদেশ রেল, নৌ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণ কমিটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, ‘চিলমারী ঘাটকে সচল রাখতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ।’
কুড়িগ্রাম মটর শ্রমিক ইউনিয়নের চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া বলেন, ‘ফেরি অচল থাকায় বিকল্প পথে ঘুরতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ক্ষতি হচ্ছে।’
কুড়িগ্রাম বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামান জানান, ‘চিলমারী ফেরি পথ প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। বর্তমানে চারটি ড্রেজার এই রুট সচল রাখতে কাজ করছে। ড্রেজার বাড়ানো গেলে ফেরি নিয়মিত চালু রাখা সম্ভব হবে।’
এই বাংলা/এমএস
টপিক
