কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে অবস্থিত যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ভাসমান তেল ডিপো দু’টিতে প্রায় আট বছর ধরে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। বাড়তি দামে জ্বালানি তেল কিনে সেচ দিতে বাধ্য হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিপো দু’টিতে তেল না থাকায় ডিলাররা রংপুরের পার্বতীপুরসহ দূরবর্তী ডিপো থেকে জ্বালানি এনে সরবরাহ করছেন। এতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে হচ্ছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
১৯৮৯ সালে চিলমারীতে যমুনা ও মেঘনা কোম্পানির দুটি ভাসমান তেল ডিপো স্থাপন করা হয়। এসব ডিপো থেকে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হতো। ২০১৮ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুই ডিপোর তেল শেষ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সেখানে নতুন করে তেল আসেনি।
একসময় এসব ডিপো থেকে চিলমারী, উলিপুর, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, রৌমারী, রাজিবপুরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ছাড়াও গাইবান্ধা, রংপুর, লালমনিরহাট, জামালপুর ও শেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে সেচ মৌসুমে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো।
জেলা সংশ্লিষ্টরা জানান, তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদ এলাকায় নৌযান, ট্রাক্টর, জেনারেটর, মাহেন্দ্র, নছিমন-করিমনসহ নানা যানবাহন চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা রয়েছে। চরাঞ্চলে বোরো মৌসুমে শুধু সেচ ও চাষের জন্যই প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়।
যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপো ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাসমান ডিপোটি স্থায়ীভাবে চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের একটি টিম দুই বছর আগে এলাকা পরিদর্শন করে গেছে।
অন্যদিকে মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন পাটোয়ারী জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা কমে যাওয়ায় তেলবাহী জাহাজ ভিড়তে পারছে না, ফলে দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় তেল ব্যবসায়ীরা বলেন, দূরবর্তী ডিপো থেকে তেল আনতে বেশি খরচ হওয়ায় গত আট বছর ধরে তারা বেশি দামে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। দ্রুত ডিপো দু’টিতে তেল সরবরাহ চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
রমনা মডেল ইউনিয়নের কৃষক সেলিম মিয়া জানান, আগে ভাসমান ডিপো থেকে তেল কিনে কম খরচে চাষাবাদ করা যেত। এখন বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনতে হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ফসলের দামে।
উত্তরবঙ্গ ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মো. রিয়াজুল হক বলেন, ডিপোটি স্থায়ী করার দাবিতে বিভিন্ন পর্যায়ে আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সমাধান না হলে আসন্ন বোরো মৌসুমে এই অঞ্চলে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

