কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও হিমেল বাতাস ও শীতল আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ায় দিনমজুরদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশার ঘনত্ব কম হলেও ঠান্ডা বাতাসের প্রভাবে চরাঞ্চলে শীতের মাত্রা কয়েকগুণ বেশি অনুভূত হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৬ নদ-নদীর তীরবর্তী ৮৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত কুড়িগ্রামের ৪৬৯টি চরের মধ্যে ২৬৯টিতে মানুষের বসবাস। এসব এলাকার বেশিরভাগই শীতপ্রবণ হওয়ায় বাসিন্দারা এখন ঘরবন্দী। বিশেষ করে উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, চররাজিবপুর ও ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী ঝুনকার চর, কালির আলগা, পোড়ার চরসহ বিভিন্ন স্থানে শীতের প্রভাব তীব্র।
শীতের কষ্ট নিয়ে ঝুনকার চর এলাকার ৭০ বছর বয়সী মুনসুর আলী বলেন, “আমরা গরীব মানুষ। পরার মতো মোটা কাপড় নাই। রাতে ঘুমাইতে গেলেই ঠান্ডায় শরীর জমে যায়।”
কালির আলগার হালিমা বেগম জানান, “শীতের কাপড় পাই না। কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না।”
পোড়ার চর এলাকার দিনমজুর আব্দুল মালেক বলেন, “হাওয়ার ধমক এমন যে নদীর পাড়ে দাঁড়ানো দায়। কাজ বন্ধ, ঘরে খাবারও নাই।”
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান,
আগামী সাত দিন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রির আশপাশে উঠানামা করতে পারে। এতে শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে।
চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “কুড়িগ্রামে শতাধিক এনজিও থাকলেও শীতের সময় তারা নিষ্ক্রিয় থাকে। সাড়ে পাঁচ লাখ চরবাসীর দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই। সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি।”
এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানান, শীত নিবারণে ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শীতবস্ত্র কেনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা বিতরণ করা হবে।
চরাঞ্চলে শীতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
