নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) বন্ধ চারটি কারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সোমবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে কয়েক হাজার শ্রমিক ইপিজেডের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এক পর্যায়ে তারা ইপিজেডের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বাধা দেয়। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শ্রমিক (যাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বেতন নিয়মিত দেওয়া হয় না। অসুস্থতার কারণে ছুটি চাইলে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করা হয়। এছাড়া অতিরিক্ত সময় কাজ করেও (ওভারটাইম) ন্যায্য পারিশ্রমিক পাওয়া যায় না। তারা আরও জানান, অধিকার নিয়ে কথা বললেই চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হয়।
তাদের দাবি, সোমবারের কর্মসূচি ছিল শুধুমাত্র বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করা। কিন্তু পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কিছু বহিরাগত এসে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা।
এর আগে গতকাল রবিবার শ্রমিক অসন্তোষের জেরে উত্তরা ইপিজেডের চারটি কারখানা— দেশবন্ধু টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, সেকশন সেভেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ইপিএফ প্রিন্ট লিমিটেড, এবং মেইগো বাংলাদেশ লিমিটেড— অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের জারি করা নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার (২৫ অক্টোবর) কিছু শ্রমিক কাজ না করে প্রধান ফটকের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অন্য শ্রমিকদেরও কাজে বাধা দেন, যার ফলে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
নোটিশে আরও বলা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেও তারা নির্দেশ অমান্য করে। ফলে উৎপাদন বন্ধ থাকা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে চারটি কারখানার কার্যক্রম আইন অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

