অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে আলোচনা সভা

0
67
ছবি : এই বাংলা প্রতিনিধি

বিশেষ প্রতিনিধি :

যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক চিন্তা, নেতৃত্বের দর্শন ও সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিটার কলেজের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সভার আয়োজন করে অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি। এতে অক্সফোর্ড ছাড়াও ব্রিটেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

সভাটির মূল আলোচ্য বিষয় ছিল সম্প্রতি প্রকাশিত বই “Tarique Rahman: Politics and Policies in Contemporary Bangladesh”, যেখানে তারেক রহমানের গণতান্ত্রিক রাজনীতি, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়নবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক স্যার পিটার হিপ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী ও আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, এবং বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. মানজিদা আহমেদ।

ড. মানজিদা তাঁর প্রবন্ধে বলেন, তারেক রহমানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি মূলত গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ধারণার ওপর নির্ভরশীল। তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও সমতার মূল্যবোধ সর্বাগ্রে থাকবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারেক রহমান নির্বাসিত অবস্থায় থেকেও দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন-প্রক্রিয়ায় নতুন ধারণা যোগ করছেন। তাঁর প্রস্তাবিত ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

ড. শহিদুল আলম বলেন, “তারেক রহমানের চিন্তায় জনগণের অংশগ্রহণ এবং সরকারের জবাবদিহিতা—এই দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। যদি এই ধারণাগুলো বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

ব্রিটিশ কূটনীতিক স্যার পিটার হিপ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে কূটনৈতিক প্রজ্ঞা, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি অপরিহার্য। তারেক রহমানের নীতি-অভিমুখে এই মূল্যবোধগুলো প্রতিফলিত হয়েছে।”

সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের নয়, বরং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনেরও রূপরেখা। তিনি বিশ্বাস করেন, এই পরিকল্পনা বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে সাহায্য করবে।

ড. মানজিদা আহমেদ তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক ফিনান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে অ্যামাজন, ইবে এবং অন্যান্য বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। এই ভিশন বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে আরও গভীরভাবে যুক্ত করবে।

ড. মানজিদা বলেন, “তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন প্রতিহিংসা বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়; বরং ‘ন্যায়, স্বাধীনতা ও অগ্রগতি’-নির্ভর এক রেইনবো ন্যাশন বা রঙধনু জাতি গঠনের অঙ্গীকার।”

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির সভাপতি আহমেদ মুহতাদি এবং সহ-সভাপতি সাইমুর মুজিব রহমান।
বইটির লেখক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক পত্রিকা The Weekly Runner-এর সম্পাদক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও প্রবাসী রাজনীতি নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি করে আসছেন।

আলোচনা সভার বক্তারা একমত হন যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নেতৃত্বে নতুন চিন্তা, দূরদৃষ্টি ও সংস্কারমুখী দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। তারেক রহমানের নীতি ও পরিকল্পনা—বিশেষ করে জনগণের অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি—ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here